২৪, আগস্ট, ২০১৯, শনিবার | | ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০


দলান্ধ প্রশাসনের বিরুদ্ধে গোলাম রব্বানীর এক অসম যুদ্ধ

রিপোর্টার নামঃ প্রতিদিনের কাগজ অনলাইন | আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৬:৫০ পিএম

দলান্ধ প্রশাসনের বিরুদ্ধে গোলাম রব্বানীর এক অসম যুদ্ধ
দলান্ধ প্রশাসনের বিরুদ্ধে গোলাম রব্বানীর এক অসম যুদ্ধ

একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়েছিলেন অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। চূড়ান্তভাবে প্রার্থীও হয়েছেন। কিন্তু অন্য প্রার্থীদের মতো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তিনি প্রার্থী হননি। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের পরিবর্তে তাকে ঘুরতে হয়েছে ইসি ও আদালতের চত্বরে চত্বরে। ভোটের লড়াইয়ের আগে মনোনয়নপত্র জমার লড়াইয়ে জিততে হয়েছে তাকে। শেষ পর্যন্ত প্রার্থীর খাতায় নাম তুলেছেন তিনি। রংপুর-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে লড়বেন তিনি। গোলাম রব্বানীর আইনজীবী মিজানুর রহমান জানান, প্রথমে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন গোলাম রব্বানী।

মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে গোলাম রব্বানীর পক্ষে রাকিবুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে তাকে পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ। পরে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াত। তফসিল অনুযায়ী ২৮শে নভেম্বর ছিল মনোনয়ন জমার শেষ দিন। দলীয় মনোনয়নের চিঠি পেতে দেরি হওয়ায় ওইদিন দুপুরে প্রস্তাবক ও সমর্থকসহ রব্বানীর আইনজীবীরা মনোনয়ন জমা নিতে যান। কিন্তু পাঁচ ঘণ্টা রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও তারা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি।

তিনি অভিযোগ করেন, রংপুরের ডিসি ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল হাবীব তার দরজার সামনে ৫ ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখে কোনো কারণ উল্লেখ না করেই মনোনয়নপত্র গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। এসময় রব্বানীর পক্ষের আইনজীবীরা সেখানে অবস্থান নেন। তাদের সামনে অন্যরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে চলে যেতে থাকেন। এ ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই রংপুর জেলা পুলিশের বি-সার্কেলসহ মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তা এবং ডিএসবি ও ডিবির লোকজন তাদের ঘিরে রেখে জেরা করতে থাকেন- কেন প্রার্থী আসলো না। প্রস্তাবক, সমর্থনকারী কেন আসলো না। এ ছাড়াও তারা অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর মনোনয়ন কাগজপত্র দেখতে থাকেন। পরে পুলিশের এক কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে মনোনয়ন দাখিল করতে গেলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। অনেক অনুরোধের পর রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে গেলে রিটার্নিং কর্মকর্তা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে ডিসির ছোট রুমে গিয়ে ঢাকায় কথা বলতে বলেন। তিনি ওই ছোট রুমে যাওয়ার পর রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সকল কর্মকর্তা সেখানে যান। অনেকক্ষণ পর ফিরে এসে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের বলেন, আমরা তার মনোনয়ন গ্রহণ করতে পারবো না। উপর থেকে না বলা হয়েছে।

রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়ন জমা দিতে ব্যর্থ হয়ে ইসির শরণাপন্ন হন গোলাম রব্বানীর আইনজীবীরা। ১লা ডিসেম্বর তারা ইসিতে অভিযোগ নিয়ে আসেন। তখন ইসিতে মনোনয়নের মূল ফাইলসহ অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। ইতিমধ্যে হাইকোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতিও রাখেন তারা। ২রা ডিসেম্বর উচ্চ আদালতে রিট করেন গোলাম রব্বানী।

পরদিন গোলাম রব্বানীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ না করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। দুই সপ্তাহের মধ্যে রংপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে রুলের জবাব দিতে বলা হয় এবং রুল নিষ্পত্তি হওয়ার আগে দ্রুত তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে আদালত নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের এই রায়ের বিপক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। সেই আপিল খারিজ হয়ে যায়। চার ঘণ্টার মধ্যে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই বাছাইয়ের নির্দেশ দেন আদালত। ইতিমধ্যে হাইকোর্টের আদেশ নিয়ে ইসিতে আসলে আইনজীবীদের কাছে মনোনয়নপত্রের মূলকপি দিতে অস্বীকৃতি জানান ইসি কর্মকর্তারা। তারা প্রার্থীকে সশরীরে আসতে বলেন।

ইসি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ফাইল বের করেন রব্বানীর আইনজীবীরা। ৫ই ডিসেম্বর রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তারা। মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর গোলাম রব্বানীর প্রস্তাবকারী ওমর ফারুক (৫০)কে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায় মিঠাপুকুর থানা পুলিশ। পরদিন বৃহস্পতিবার যাচাই বাছাইকালে রব্বানীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল হাবীব জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি সংক্রান্ত কাগজ না আসায় এবং মামলার তথ্য উল্লেখ না থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

আইনজীবীরা জানান, যে মামলার তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে তা দায়ের হয়েছে ১লা ডিসেম্বর। ইতিমধ্যে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিলের সময় শেষ হয়ে যায়। পরদিন ৭ই ডিসেম্বর ইসিতে আপিল করেন গোলাম রব্বানী। ইতিমধ্যে বিএনপি চূড়ান্ত মনোনয়নের তালিকা দিতে শুরু করে। নির্দিষ্ট সময়ে আপিল শুনানির তালিকায় তার নাম ছিল না। তিন দিনে ৫৪২টি আপিলের শুনানি করে ইসি। শনিবার রাত ১১টার দিকে আপিল শুনানি শেষ হয়। ওই সময় আপিল শুনানির জন্য গোলাম রব্বানীর আইনজীবীরা দাঁড়ালে ইসি সচিব জানান তাদের ফাইল কমিশনে সিদ্ধান্তের জন্য তোলা হবে। তখন আইনজীবীরা বলেন, আদালতের নির্দেশ আছে দ্রুত মনোনয়নপত্র বাছাই করার। কমিশনের আপিল শুনানিতে টিকে যায় রব্বানীর মনোনয়ন।

পরদিন ৫৪২টি আপিলের রায়ের তালিকা প্রকাশ হলেও অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর রায় দেয়নি ইসি। দিনভর অপেক্ষমাণ থাকেন তার আইনজীবীরা। শেষ মুহূর্তে বিকাল ৫টার দিকে রায়ের সম্পূরক তালিকা পান আইনজীবীরা।

গোলাম রব্বানী বলেন, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে তাকে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। সামনে আরো বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ইতিমধ্যে নেতাকর্মী-সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, জামায়াত নেতা অধ্যাপক গোলাম রব্বানী ২০১৪ সালে ১ লাখ ২৮ হাজার ভোট পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। সংসদ নির্বাচনে প্রার্র্থী হতে ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমান এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী এস এম ফখর-উজ-জামান।

সূত্র: দৈনিক মানবজমিন

দলান্ধ প্রশাসনের বিরুদ্ধে গোলাম রব্বানীর এক অসম যুদ্ধ

প্রতিবেদক নাম: প্রতিদিনের কাগজ অনলাইন ,

প্রকাশের সময়ঃ ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৬:৫০ পিএম

একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়েছিলেন অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। চূড়ান্তভাবে প্রার্থীও হয়েছেন। কিন্তু অন্য প্রার্থীদের মতো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তিনি প্রার্থী হননি। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের পরিবর্তে তাকে ঘুরতে হয়েছে ইসি ও আদালতের চত্বরে চত্বরে। ভোটের লড়াইয়ের আগে মনোনয়নপত্র জমার লড়াইয়ে জিততে হয়েছে তাকে। শেষ পর্যন্ত প্রার্থীর খাতায় নাম তুলেছেন তিনি। রংপুর-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে লড়বেন তিনি। গোলাম রব্বানীর আইনজীবী মিজানুর রহমান জানান, প্রথমে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন গোলাম রব্বানী।

মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে গোলাম রব্বানীর পক্ষে রাকিবুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে তাকে পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ। পরে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াত। তফসিল অনুযায়ী ২৮শে নভেম্বর ছিল মনোনয়ন জমার শেষ দিন। দলীয় মনোনয়নের চিঠি পেতে দেরি হওয়ায় ওইদিন দুপুরে প্রস্তাবক ও সমর্থকসহ রব্বানীর আইনজীবীরা মনোনয়ন জমা নিতে যান। কিন্তু পাঁচ ঘণ্টা রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও তারা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি।

তিনি অভিযোগ করেন, রংপুরের ডিসি ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল হাবীব তার দরজার সামনে ৫ ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখে কোনো কারণ উল্লেখ না করেই মনোনয়নপত্র গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। এসময় রব্বানীর পক্ষের আইনজীবীরা সেখানে অবস্থান নেন। তাদের সামনে অন্যরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে চলে যেতে থাকেন। এ ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই রংপুর জেলা পুলিশের বি-সার্কেলসহ মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তা এবং ডিএসবি ও ডিবির লোকজন তাদের ঘিরে রেখে জেরা করতে থাকেন- কেন প্রার্থী আসলো না। প্রস্তাবক, সমর্থনকারী কেন আসলো না। এ ছাড়াও তারা অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর মনোনয়ন কাগজপত্র দেখতে থাকেন। পরে পুলিশের এক কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে মনোনয়ন দাখিল করতে গেলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। অনেক অনুরোধের পর রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে গেলে রিটার্নিং কর্মকর্তা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে ডিসির ছোট রুমে গিয়ে ঢাকায় কথা বলতে বলেন। তিনি ওই ছোট রুমে যাওয়ার পর রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সকল কর্মকর্তা সেখানে যান। অনেকক্ষণ পর ফিরে এসে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের বলেন, আমরা তার মনোনয়ন গ্রহণ করতে পারবো না। উপর থেকে না বলা হয়েছে।

রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়ন জমা দিতে ব্যর্থ হয়ে ইসির শরণাপন্ন হন গোলাম রব্বানীর আইনজীবীরা। ১লা ডিসেম্বর তারা ইসিতে অভিযোগ নিয়ে আসেন। তখন ইসিতে মনোনয়নের মূল ফাইলসহ অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। ইতিমধ্যে হাইকোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতিও রাখেন তারা। ২রা ডিসেম্বর উচ্চ আদালতে রিট করেন গোলাম রব্বানী।

পরদিন গোলাম রব্বানীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ না করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। দুই সপ্তাহের মধ্যে রংপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে রুলের জবাব দিতে বলা হয় এবং রুল নিষ্পত্তি হওয়ার আগে দ্রুত তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে আদালত নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের এই রায়ের বিপক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। সেই আপিল খারিজ হয়ে যায়। চার ঘণ্টার মধ্যে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই বাছাইয়ের নির্দেশ দেন আদালত। ইতিমধ্যে হাইকোর্টের আদেশ নিয়ে ইসিতে আসলে আইনজীবীদের কাছে মনোনয়নপত্রের মূলকপি দিতে অস্বীকৃতি জানান ইসি কর্মকর্তারা। তারা প্রার্থীকে সশরীরে আসতে বলেন।

ইসি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ফাইল বের করেন রব্বানীর আইনজীবীরা। ৫ই ডিসেম্বর রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তারা। মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর গোলাম রব্বানীর প্রস্তাবকারী ওমর ফারুক (৫০)কে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায় মিঠাপুকুর থানা পুলিশ। পরদিন বৃহস্পতিবার যাচাই বাছাইকালে রব্বানীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল হাবীব জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি সংক্রান্ত কাগজ না আসায় এবং মামলার তথ্য উল্লেখ না থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

আইনজীবীরা জানান, যে মামলার তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে তা দায়ের হয়েছে ১লা ডিসেম্বর। ইতিমধ্যে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিলের সময় শেষ হয়ে যায়। পরদিন ৭ই ডিসেম্বর ইসিতে আপিল করেন গোলাম রব্বানী। ইতিমধ্যে বিএনপি চূড়ান্ত মনোনয়নের তালিকা দিতে শুরু করে। নির্দিষ্ট সময়ে আপিল শুনানির তালিকায় তার নাম ছিল না। তিন দিনে ৫৪২টি আপিলের শুনানি করে ইসি। শনিবার রাত ১১টার দিকে আপিল শুনানি শেষ হয়। ওই সময় আপিল শুনানির জন্য গোলাম রব্বানীর আইনজীবীরা দাঁড়ালে ইসি সচিব জানান তাদের ফাইল কমিশনে সিদ্ধান্তের জন্য তোলা হবে। তখন আইনজীবীরা বলেন, আদালতের নির্দেশ আছে দ্রুত মনোনয়নপত্র বাছাই করার। কমিশনের আপিল শুনানিতে টিকে যায় রব্বানীর মনোনয়ন।

পরদিন ৫৪২টি আপিলের রায়ের তালিকা প্রকাশ হলেও অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর রায় দেয়নি ইসি। দিনভর অপেক্ষমাণ থাকেন তার আইনজীবীরা। শেষ মুহূর্তে বিকাল ৫টার দিকে রায়ের সম্পূরক তালিকা পান আইনজীবীরা।

গোলাম রব্বানী বলেন, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে তাকে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। সামনে আরো বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ইতিমধ্যে নেতাকর্মী-সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, জামায়াত নেতা অধ্যাপক গোলাম রব্বানী ২০১৪ সালে ১ লাখ ২৮ হাজার ভোট পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। সংসদ নির্বাচনে প্রার্র্থী হতে ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমান এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী এস এম ফখর-উজ-জামান।

সূত্র: দৈনিক মানবজমিন